Emigration

বিনা খরচে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। আর এ চুক্তি চূড়ান্ত করতে মালয়েশিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশে আসার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়া থেকে একটি টিম বাংলাদেশের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন ২৪ ফেব্রুয়ারি বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি স্থানীয় একটি অনলাইনে মালয়শিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান বলেছেন, ‘শীঘ্রই শূন্য-ব্যয় নিয়োগের চুক্তিতে থাকা বাকি ইস্যুগুলির জন্য মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছি। প্রায় সমস্ত বিষয় নিষ্পত্তি হয়ে গেছে এবং আমরা এটি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বলেছে যে তারা নেপালের সাথে যেভাবে চুক্তিতে পৌঁছেছে ঠিক তার মতো যথাযথ সম্মতি ছাড়া
শ্রমিক প্রেরণ করবে না এবং প্রয়োজনীয় বিধানের যথাযথ সম্মতি থাকতে হবে।’

মালয়েশিয়া অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য জোরকরে কাজ করাতে নিয়ম উঠিয়ে দিতে এবং আমদানিকারক দেশগুলি থেকে সম্ভাব্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য আরেকটি শূন্য মূল্যের নিয়োগ চুক্তি করতে চাইছে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার নতুন চুক্তিগুলি নেপালের সাথে স্বাক্ষরিত নিয়োগ চুক্তির অনুরূপ হবে। এছাড়া চুক্তির অধীনে নিয়োগকর্তারা নিয়োগের জন্য চার্জ, যাওয়া আসার বিমান ভাড়া, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুরক্ষা স্ক্রিনিং এবং ভ্যাট প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার কয়েকটি পর্যায়ে বৈঠক হলেও এখনো শ্রমিক নিয়োগে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি দুইদেশ।
ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তসলিম উদ্দিন বলেছেন, আমরা এখনই সার্ভিস সেক্টরে কোন বিদেশি অভিবাসী নিয়োগ করতে রাজি নয়। শুধু থ্রিডি সেক্টরে বিদেশে শ্রমিক নিয়োগের জন্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমরা চাই মালয়েশিয়ার বেকারত্ব হারকে কমিয়ে স্থানীয়দের কাজের সুযোগ করে দেওয়া।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে গণ্য করা হয় মালয়েশিয়াকে। এ সম্ভাবনাময় বাজারটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই চলছে জটিলতা।

সরকারি-বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি প্লাস) ২০১৭ ও ২০১৮ সালে প্রায় পৌনে তিন লাখ কর্মী মালয়েশিয়া যান। সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হলেও কর্মীপ্রতি সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত নেয় এজেন্সিগুলো।

একটি সংঘবদ্ধচক্রের অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার কারণে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ করে দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

এরপর তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় বৈঠক করেও শ্রমবাজারটি চালু করতে পারেননি। এরপর ৩১ অক্টোবর ঢাকায় দু’দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ৬ নভেম্বর মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

মন্ত্রীর বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, অভিবাসন ব্যয় কমাতে দুই দেশ একমত। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের দেশ ছাড়ার আগেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। অধিক সংখ্যায় রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিউনিটির অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক ভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। দেশটিতে প্রচুর বাংলাদেশি কর্মীর প্রয়োজন। সিন্ডিকেট মুক্ত ও কম খরচে কর্মী প্রেরণে বাংলাদেশের বিশাল লোভনীয় এই বাজারের ব্যাপকতা বাড়াবে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। মূলত কেনই মালয়েশিয়া চাচ্ছে না বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে তা অকপটে স্বীকার করেছেন সে দেশের সরকারের একাধিক মন্ত্রী।

মালয়েশিয়া থেকে বারবার বলা হচ্ছে সিন্ডিকেট মুক্ত এবং অল্পপ খরচে মালয়েশিয়া শ্রমিক নিতে চাই। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও সিন্ডিকেট মুক্ত হতে পারেনি বলে বিশ্বাস করে মালয়েশিয়া। তাই কালক্ষেপণ করেই সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

আমারসংবাদ/কেএস

The post বিনা খরচে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া appeared first on Daily Amar Sangbad.

এ জাতীয় আরো খবর জানতে ভিজিট করুন- ReaLBDnews.com

শেয়ার করুনঃ